Wednesday, September 30

‌’লঞ্চ কোনো রকমে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলাম’


লঞ্চ চলাচলের দ্বিতীয় দিনে যাত্রীদের কেউই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন না। লঞ্চগুলোও বেশি যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। ছবি: আসাদুজ্জামানতখন দুপুর ১২টা। সাইরেন বাজিয়ে শরীয়তপুর থেকে মিরাজ-৬ নামের একটি লঞ্চ সদরঘাটে আসে। এরপর লঞ্চ থেকে একে একে যাত্রীরা নামতে শুরু করেন। কোনো যাত্রী তিন ফিট শারিরীক দূরত্ব বজায় রাখেননি। অনেকের মুখে মাস্ক নেই, হাতে নেই কোনো গ্লাভস। ছোট আকারের এই লঞ্চটিতে যাত্রীদের ছিল উপচেপড়া ভিড়।

মিরাজ-৬ নামের লঞ্চে করে শরীয়তপুর থেকে ঢাকায় আসা তরুণ মোহাম্মদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘লঞ্চের ভেতর কোনো রকম দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলাম। গাদাগাদি করে মানুষ শরীয়তপুর থেকে লঞ্চে করে ঢাকার সদরঘাটে এসেছে। কেউই স্বাস্থ্য বিধি মেনে লঞ্চে চলাচল করেনি। লঞ্চে যতক্ষণ ছিলাম, ততক্ষণ ভয়ে ছিলাম। আমরা লঞ্চের যাত্রীরা যেভাবে চলাচল করছি, তাতে অনেকে করোনায় সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন। ‘

মিরাজ-৬ নামের লঞ্চটি গতকাল রোববারও একইভাবে অধিক যাত্রী নিয়ে সদরঘাটে আসে। এ ব্যাপারে লঞ্চটির ব্যবস্থাপক মো. সাঈদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘাটে লঞ্চ ভেড়ালে যাত্রীরা কে কার আগে নামবেন, সেই প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে পড়েন। যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে স্বাস্থ্য বিধি মানছে না। যাত্রীদের চাপ থাকায় অনেক সময় স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা সম্ভব হচ্ছে না।’

টানা ৬৬ দিন বন্ধ থাকার পর রোববার থেকে নৌপথে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়। রোববারের মতো আজ সোমবারও সদরঘাটে দেখা যায়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন না কেউ। মাস্ক ছাড়া লঞ্চ ঘাটে প্রবেশ নিষেধ থাকলেও অনেক যাত্রী তা মানছেন না। আবার লঞ্চে যাত্রী ঢোকানোর আগে সঠিকভাবে জীবানুমুক্ত করার জন্য যে ধরনের পদক্ষেপ দরকার, তা নিচ্ছে না লঞ্চের মালিকপক্ষ।

সচেতন যাত্রীরা বলছেন, সেসব লঞ্চ মালিক কিংবা যাত্রীরা স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার ব্যাপারে শিথীলতা দেখাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। যে কারণে লঞ্চ মালিকরা তাঁদের ইচ্ছামতো যাত্রী তুলছেন। যাত্রীরাও শারীরিক দূরত্ব বজায় না রেখে লঞ্চে করে যাতায়াত করছেন। এতে করে করোনা ঝূঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উপপরিচালক কায়সারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সবার আগে যাত্রীদের সচেতন থাকতে হবে। আমরা সদরঘাটে দিনরাত দেখছি, খুব কম যাত্রী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করছেন। মুখে মাস্ক না দিয়ে হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আর সদরঘাটে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ হাজার যাত্রী আসা-যাওয়া করে।

বিআইডব্লিউটিএ অফিসের সারেং রফিকুল ইসলাম জানান, রোববারের তুলনায় গতকাল সোমবার লঞ্চের যাত্রীদের চাপ বেশি ছিল। দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ঢাকার সদরঘাট থেকে ১৮টি লঞ্চ ছেড়ে যায়। এসব রঞ্চ চাঁদপুর, বরিশাল, মুন্সিগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

লঞ্চ চলাচলের দ্বিতীয় দিনে যাত্রীদের কেউই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন না। লঞ্চগুলোও বেশি যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। ছবি: আসাদুজ্জামানসদরঘাটে যাত্রীদের কেউ হাত ধোঁয়া কিংবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার করে লঞ্চে ভেতর প্রবেশ করতে দেখা যায়নি। লঞ্চের পক্ষ থেকেও কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। অবশ্য স্বাস্থ্য বিধি মেনে না চলায় আজ সোমবার সদরঘাটে একটি লঞ্চকে এক হাজার টাকা জরিমানা করেছে বিআইডব্লিউটিএ’র ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহাবুব জাহাঙ্গীর প্রথম আলোকে বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার কারণে একটি লঞ্চকে জরিমানা করা হয়েছে। যাত্রী পরিবহনের ব্যাপারে যেসব রঞ্চ স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলবে না, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। করোনার ঝুঁকি এড়াতে যাত্রীদের সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই।

রোববার নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সরেজমিন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ নৌপথে যাত্রী পরিবহন যদি আমাদের জন্য ঝুঁকি হয়ে যায়, তাহলে সরকারের এই সিদ্ধান্তই শেষ সিদ্ধান্ত নয়। ১৫ দিনের সময়সীমা বিশ্লেষণ করে সরকার নিশ্চয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার ব্যাপারে তদারকির দায়িত্বে থাকা কোনো সরকারি কর্মকর্তা যদি দায়িত্বে অবহেলা করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো লঞ্চ মালিক যদি স্বাস্থ্যবিধি না মানার ক্ষেত্রে শীথিলতা দেখান, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *