সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমনে ভারত ও চীনের জেনারেলরা বসছেন আজ


দীর্ঘ এক মাসের সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমনে ভারত ও চীনের উচ্চপর্যায়ের সামরিক কর্তাদের বৈঠক বসছে আজ শনিবার। পূর্ব লাদাখের লেহ জেলার অন্তর্গত প্যাংগং লেকের দক্ষিণ প্রান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার (এলএসি) লাগোয়া চুসুলে এই বৈঠকে অংশ নেবেন দুই দেশের কোর কমান্ডাররা।

দুই দেশের সাম্প্রতিক সীমান্ত সংঘাত কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা এই কোর কমান্ডারদের বৈঠকের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েই বোঝা যাচ্ছে। এলএসির বিবাদ মেটাতে এর আগে বড়জোর ডিভিশনাল কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। কোর কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক এই প্রথম।

বৈঠক শুরুর এক সপ্তাহ আগে চীনা সেনাবাহিনীর ‘ওয়েস্টার্ন থিয়েটারের’ প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন জেনারেল জু ওইলিং। তিনি এর আগে ওয়েস্টার্ন থিয়েটারের কমান্ডার ছিলেন। এই বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন ১৪ কোরের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল হরিন্দর সিং।

চীন-ভারত সীমান্ত বিবাদ বহু বছরের। বিবাদ মেটানোর জন্য দুই দেশের সামরিক পর্যায়ের বহুবিধ ব্যবস্থাও স্বীকৃত। সামরিক ক্ষেত্রে বিভিন্নস্তরীয় আলোচনা ছাড়াও বিবাদ মেটাতে কূটনৈতিক স্তরে মীমাংসার চেষ্টা হয়। ডোকলামের ক্ষেত্রে যেমন হয়েছিল। আজ শনিবার সামরিক পর্যায়ের উচ্চস্তরীয় এই আলোচনার পাশাপাশি কূটনৈতিক স্তরেও দুই দেশের কথা চলছে। এখন দেখার বিষয়, ওই আলোচনা ভারতকে কতটা সন্তুষ্ট করে।

বেশ কিছু দিন ধরে লাদাখ সীমান্তে এই দুটি দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে চরম উত্তেজনা চলছে

করোনাকালে চীন কেন লাদাখের প্যাংগং লেক, ডেমচক ও গালওয়ান উপত্যকায় এলএসি অতিক্রম করে নতুন ঘাঁটি গাড়ল এবং কেনই বা সিকিমের নাকু লা অঞ্চলে ভারতীয় বাহিনীর টহলদারিতে বাধা দিল, তার নানা রকম ব্যাখ্যা হচ্ছে। টানা এক মাস ধরে এই এলাকাগুলোয় দুই দেশের বাহিনীর পারস্পরিক সামরিক অবস্থান অপরিবর্তিত। ভারতের অভিযোগ অনুযায়ী চীন এলএসি পেরিয়ে নতুন বাংকার তৈরি করেছে ও ছাউনি ফেলেছে। একইভাবে চীনের অভিযোগ, ভারত তাদের অংশে ঢুকে রয়েছে। এই অবস্থায় কট্টরপন্থী সামরিক কর্তা নিয়োগ করলেও চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, পরিস্থিতি স্থিতিশীল ও নিয়ন্ত্রণাধীন। দুই দেশই স্বীকৃত ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী কথা বলে সমস্যার সমাধান করবে। কূটনৈতিক স্তরেও দুই দেশ সক্রিয়।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং গত মঙ্গলবার বলেছিলেন, বহু চীনা সৈন্য বিতর্কিত এলএসিতে ঘাঁটি গেড়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র অনুযায়ী, বাড়তি বাহিনী মোতায়েন করেছে ভারতও। ঢিল ছোড়া দূরত্বে দুই বাহিনীর অবস্থান। পাকিস্তান সীমান্তে নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) যতটা উত্তেজনাপ্রবণ ও চীন সীমান্তে ততটা নয়। এলওসিতে প্রায় নিয়মিতই দুই দেশের মধ্যে গোলাগুলি চলে। এলএসিতে কিন্তু আগ্নেয়াস্ত্র চলে না। সম্প্রতি চীনা ফৌজের সঙ্গে যত বিবাদ হয়েছে, সব সময় তা হাতাহাতির পর্যায়ে আবদ্ধ থেকেছে। কিন্তু গোলাগুলি না চললেও দুই দেশই এলএসির ব্যাখ্যায় অটল থাকতে সদা সচেষ্ট। এলএসি বরাবর সামরিক অবকাঠামো নির্মাণে ভারত যত দিন অনাগ্রহী ছিল, তত দিন সমস্যাও মাথাচাড়া দেয়নি। যেদিন থেকে ভারত তৎপর হয়েছে, উত্তেজনাও বাড়িয়ে তুলেছে চীন।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *