Friday, October 23

সাবধান! করোনা-সুনামির আতঙ্কে উদ্বিগ্ন চিকিৎসকেরা


নিজস্ব প্রতিবেদন: প্রথম ঢেউ চিহ্ন রেখে চলে গিয়েছে। এ বার কি দ্বিতীয় ঢেউ আসার পালা? পুজোর পরে এ রাজ্যে করোনা-পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে কিনা, এ নিয়ে পুজোর সপ্তাহ দু’য়েক আগেই এ রাজ্যের চিকিৎসককুল গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং রাজ্য কোভিড টাস্ক ফোর্সের বরিষ্ঠ সদস্য ড. সুকুমার মুখার্জি। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন এই কথা মনে করিয়ে যে, কেরলে ওনাম উৎসবের পরে সেখানে লাফিয়ে বেড়েছে করোনা-সংক্রমণ। যা মহারাষ্ট্র ও দিল্লির পরেই। অথচ কেরলে প্রথম থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। তা হলে এখানে দুর্গাপুজোর পরেও যদি এরকম খারাপ কিছু হয়, সেটা আমরা সামলাতে পারব তো!

সত্যি বলতে কী, রাজনৈতিক মিছিল, পুজোর কেনাকাটার ভিড় এবং এক শ্রেণির দায়িত্বজ্ঞানহীন মানুষের অযথা ভিড় বাড়ানোর মনোভাবের কাছে সমস্তরকম সুরক্ষাবিধি পরাজিত হয়ে যে কোনও মুহূর্তে বিপদসীমার ওপরে চলে যেতে পারে কলকাতার করোনা সংক্রমণের ঢেউ। 

সুকুমারবাবু আরও জানাচ্ছেন যে, এখন এ রাজ্যে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে আইসিইউ-র সংখ্যা বারোশোর মতো। তাতেই সিরিয়াস করোনারোগীদের সেখানে জায়গা পেতে ২-৩ দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পুজোর পরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে, যার আশঙ্কা অকেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, এই পরিকাঠামো নিয়ে লড়াই করা সম্ভব হবে না। তাঁর নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক অবশ্য ইতিমধ্যেই মমতা ব্যানার্জির কাছে আইসিইউ-র সংখ্যা যাতে ২০০০ করা যায়, সেই মর্মে অনুরোধ জানিয়ে রেখেছেন। এবং মুখ্যমন্ত্রীকে এ-ও অনুরোধ করেছেন যে, তাঁর সরকার যাতে করোনা-সুরক্ষাবিধি নিয়ে পুজোর সময়ে যথেষ্ট কড়াকড়ি করে। পরিকাঠামো একই রকম থাকলে এবং পুজোয় লাগামছাড়া মেলামেশার মাধ্যমে সংক্রমণ বাড়লে বাড়িতেই বিনা চিকিৎসায় মরা ছাড়া হয়তো উপায় থাকবে না রোগীদের।

এতদিন দেখা গিয়েছে, শহরাঞ্চলেই মূলত করোনা-সংক্রমণ বেশি। পুজোর পরে সেটা কিন্তু গ্রামাঞ্চলেও ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়তে পারে, এ নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এ রাজ্যের চিকিৎসকদের বিভিন্ন সংগঠন। কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া, হুগলি ও দুই ২৪ পরগনাও বিপন্ন হয়ে পড়তে পারে। 

করোনা ভ্যাকসিন আসতে এখনও মাসছ’য়েকের দেরি। এই অবস্থায় একটু সাবধান না হলে চলবে না। অথচ সচেতনতার নামগন্ধ নেই সাধারণ মানুষের আচরণে। আজকের হাতিবাগান মোড় দেখলেই পিলে চমকে ওঠার জোগাড় হতে পারে যে কোনও সচেতন মানুষের। ভিড়ে ঠাসা ফুটপাথ, রাস্তা, দোকান-পাট। ন্যূনতম সামাজিক বা শারীরিক দূরত্বটুকু রক্ষার বালাই নেই। শুধু তাই নয়, অনেকেই মাস্ক ছাড়াই মার্কেটিং করতে বেরিয়ে পড়েছেন, যেটা সব চেয়ে ভয়ঙ্কর। এমন চলতে থাকলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়াটা শুধু সময়ের অপেক্ষা!

আরও পড়ুন: অসহ্য ব্যথা কমাতে সাহায্য করছে করোনাভাইরাসের প্রোটিন! চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলল গবেষণায়





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *