প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালার শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ


কুড়িগ্রামে প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালার শিক্ষার্থী ও চরবাসীর মধ্যে আজ রোববার খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। ছবি: প্রথম আলোকুড়িগ্রামে প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালার শিক্ষার্থী ও চরবাসীর মধ্যে আজ রোববার খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। প্রথম আলো ট্রাস্ট ও সামিট গ্রুপের সহায়তায় ৩০০ জনের মধ্যে এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন প্রথম আলো কুড়িগ্রাম বন্ধুসভা ও আলোর পাঠশালা পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।

সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের রসুলপুর মৌজায় ব্রহ্মপুত্রের কোল ঘেঁষে প্রথম আলো চরের অবস্থান। চরের বাসিন্দারা বেশির ভাগই দিনমজুর। করোনা সংকটে তাঁরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তাঁদের সহায়তার জন্য খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়। ২৪৩ জন শিক্ষার্থী ও চরের ৪৭ জন বাসিন্দার মধ্যে একটি করে প্যাকেট দেওয়া হয়। প্রতি প্যাকেটে পাঁচ কেজি চাল, তিন কেজি আলু, এক কেজি লবণ, আধা কেজি ডাল, এক লিটার তেল, আড়াই শ গ্রাম মরিচ, এক কেজি পেঁয়াজ এবং দুটি সাবান ছিল।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আলোর পাঠশালা পরিচালনা কমিটির সদস্য চরের বাসিন্দা আবদুস সোবাহান মিয়া, ফজলার রহমান, মজিবর রহমান, পনের উদ্দিন, আবু বক্কর, সহিদুল ইসলাম, বন্ধুসভার সাবেক সভাপতি মোখলেছুর রহমান, হাসানুজ্জামান ও ওবায়েদুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক রাজু আহাম্মেদ ও সেলিম আহাম্মেদ, সহসভাপতি নয়ন শরখেল এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিফ ওয়াহিদ।

আলোর পাঠশালার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আকলিমা বেগমের বাবা নুর হোসেন মুন্সি। তিনি দিনমজুরের কাজ করেন। করোনাভাইরাসের প্রভাবে তিনি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। খাদ্যসহায়তা পেয়ে আকলিমা বলে, ‘চরে এখন কোনো কামকাজ নাই। খুব কষ্টে আছি। খাবারগুলা পায়া উপকার হইল।’

চরের বাসিন্দা সখিনা বেগমের স্বামী মারা গেছেন অনেক দিন আগে। নিজের জমিজমা নেই। হরেক রকম কাজ করে সংসার চালান সখিনা। খাদ্যসামগ্রী পেয়ে তিনি বলেন, ‘মানষের যে কষ্ট হইছে মোক কামত নেয় না। খুব কষ্টে আছো, বাবা। এগলা পায়া শান্তি পাইলং।’

২০০৫ সালে শিশু শ্রেণি দিয়ে প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালার যাত্রা শুরু। বর্তমানে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত চালু আছে। পাঠশালা পরিচালনা কমিটির সদস্য চরের বাসিন্দা আবদুস সোবাহান মিয়া বলেন, বর্তমানে মানুষের অবস্থা ভালো না। এই সহযোগিতাটা মানুষের কাজে লাগবে।

সূত্র: প্রথম আলো অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে ১২ এপ্রিল ২০২০ তারিখ।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *