তৃণমূলের ফুটবলেও অনিশ্চিত যাত্রা


তৃণমূল ফুটবল নিয়ে শঙ্কা জেগেছে। প্রতীকী ছবি

মেটা ও হাইলাইটসঃ ঢাকার ফুটবলের নিচের দিকের লিগগুলো এমনিতেই অনিয়মিত। তার ওপর এবার করোনাভাইরাসের প্রভাব। এ বছর তৃণমূলে কোনো লিগই না হওয়ার শঙ্কা।

প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ বাতিল করা হয়েছে কদিন আগেই। করোনাভাইরাসের কারণে স্বাধীনতা কাপও বরণ করেছে একই পরিণতি। এ মৌসুমে ঘরোয়া ফুটবলে হয়েছে শুধু ফেডারেশন কাপ। লিগের ছয় ম্যাচ পরই সব বন্ধ। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে বাফুফের নির্বাচন হবে। তারপর নতুন কমিটি এসে পরের মৌসুমের প্রস্তুতি নেবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এ বছর তাই ঘরোয়া ফুটবল আর মাঠে গড়ানোর সম্ভাবনা কমই।

পেশাদার লিগের দ্বিতীয় স্তর চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের দলবদল পিছিয়ে জুনে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দল বদল হওয়ার মতো কোনো অবস্থা এখন পর্যন্ত নেই। বাফুফে লিগটা শুরুর আগেই বাতিল করে দিয়েছে। বাফুফের পেশাদার লিগ কমিটির সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী এর ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘ক্লাব খেলতে না চাইলে আমাদের কিছু করার নেই। আমরা বাধ্য হয়ে মৌসুম বাতিল করেছি।’

ঢাকার নিচের দিকের লিগগুলোর অবস্থাও একই রকম। করোনাভাইরাসের প্রভাবে এগুলোও অনিশ্চিত। এমনিতে ছোট লিগগুলোর দিকে বরাবরই নজর কম বাফুফের। ‘হলে ভালো, না হলে নাই’ এমন একটা মনোভাব। ফলে নিচের দিকের লিগগুলো চিরকালই অবহেলিত থেকেছে। সিনিয়র ডিভিশন বা প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ পরিচালনা করে ঢাকা মহানগরী লিগ কমিটি। পাইওনিয়ার লিগের জন্যও আছে আলাদা কমিটি। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের দোতলায় মহানগরী লিগ কমিটির অফিস ঝাঁ–চকচকে হলেও নিচের দিকের লিগগুলোর ভাগ্য বদলায়নি। করোনাকালে সবকিছু ঢুকে গেছে আরও বেশি অনিশ্চয়তার বৃত্তে।

প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ লিগ—ঘরোয়া ফুটবলের তিনটি আসরই সর্বশেষ কোন বছরে হয়েছে, সেটি খুঁজতে চোখে দুরবিন লাগাতে হবে। গত বছর দ্বিতীয় বিভাগ হয়েছে। নভেম্বরে শেষ হয় প্রথম বিভাগ। পরপরই তৃতীয় বিভাগ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু হয়নি। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ, জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ততা ছিল বাফুফের। ফলে তৃতীয় বিভাগটা পড়ে যায় আড়ালে। পাইওনিয়ার লিগ শুরু হয় গত ১৫ অক্টোবর। ফাইনাল ৫ মার্চ। কিন্তু হয়নি তৃতীয় বিভাগ। আর ২০১৮ সালে হয়েছে শুধু তৃতীয় বিভাগ।

এই লিগগুলোর ভবিষ্যৎ কী জানেন না ঢাকা মহানগরী লিগ কমিটির কো-চেয়ারম্যান সালেহ জামান সেলিম। প্রথম আলোকে গতকাল তিনি বলেন, ‘তৃতীয় বিভাগে দল বদল করতে প্রস্তুত ছিল ক্লাবগুলো, কিন্তু সেটা হয়নি। করোনা গেলে কী অবস্থা দাঁড়ায় জানি না। ক্লাব দল বদল করে খেলতে রাজি হবে কি না, আমি নিশ্চিত নই। তাই জোর দিয়ে কিছু করতে পারছি না।’

বছর কয়েক আগে নিচের দিকে লিগগুলোর পৃষ্ঠপোষকতার দায়িত্ব নিয়েছিল সাইফ পাওয়ারটেক। কিন্তু কিছুদিন পরই তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে দেয় বাফুফে। এরপর নিচের দিকের লিগগুলো আবার অনিয়মিত হয়ে যায়। সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমিন এ জন্য বাফুফেকেই দায়ী করেন। কাল এক বিজ্ঞপ্তিতে বাফুফের আসন্ন নির্বাচনের কাউন্সিলরশিপ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন তিনি।

ফুটবলে সবই যেন এখন নির্বাচনকেন্দ্রিক। নিচের দিকের লিগগুলো নিয়ে ভাবার কেউ নেই। এবার যোগ হয়েছে করোনাভাইরাসের থাবা। তৃণমূলের ফুটবলের আকাশে আগে থেকেই থাকা অনিশ্চয়তার মেঘটা তাতে আরও অন্ধকারই হয়েছে।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *